ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন হামলা হলে প্রতিক্রিয়া কেমন হবে জানালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

অনলাইন ডেস্ক
৩ ঘন্টা আগে
নতুন হামলা হলে প্রতিক্রিয়া কেমন হবে জানালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক বা সন্ত্রাসী হামলা হলে তার জবাব তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা মানা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো আগ্রাসন শুরু হলে কখন এবং কী শর্তে সেই সংঘাতের অবসান হবে, তা নির্ধারণ করবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণ। একই সঙ্গে সামরিক প্রস্তুতি, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কমান্ডারদের সঙ্গে এক বৈঠকে দেওয়া বার্তায় এসব নির্দেশনা দেন সর্বোচ্চ নেতা। তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত ওই বার্তায় শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সামরিক প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মুজতবা খামেনি বলেন, শত্রুদের মোকাবিলায় সুচিন্তিত ও কার্যকর যুদ্ধপ্রস্তুতি সর্বোচ্চ প্রতিরোধ সক্ষমতা অর্জনের মৌলিক শর্ত।

তিনি নির্দেশ দেন, যেকোনো পর্যায়ের বা ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক, কার্যকর এবং ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতামুক্ত জবাব দেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের শত্রুরা আবারও সামরিক কিংবা সন্ত্রাসী হামলা শুরু করলে সেই সংঘাত কখন এবং কী শর্তে শেষ হবে, তা নির্ধারণ করবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী ও ইরানি জনগণ।


বৈঠকে সামরিক গোয়েন্দা কাঠামো আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। পাশাপাশি নিজস্ব প্রতিরক্ষা মতবাদ, সামরিক কৌশল ও যুদ্ধকৌশল উন্নত করার নির্দেশ দেন তিনি।

উদীয়মান প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আধুনিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলেন মুজতবা খামেনি।

এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আধ্যাত্মিক ভিত্তি ও জিহাদি চেতনা সুদৃঢ় করার পাশাপাশি তাদের জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয়তা পূরণ এবং পরিবারগুলোর কল্যাণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর তথ্যভান্ডার সামগ্রিকভাবে হালনাগাদ করার নির্দেশও দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তার নির্দেশনায় মার্কিন ও ইসরায়েলি শত্রুপক্ষের সব ধরনের ভৌত ও অভৌত সম্পদ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ ও হালনাগাদ রাখার কথা বলা হয়েছে।

তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি দেশব্যাপী সমর্থনকে বিদেশি শক্তি ও তাদের অভ্যন্তরীণ সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইরানের রাজপথে গত আট মাস ধরে জনগণের উপস্থিতিকে দেশটির ঐতিহাসিক আট বছরব্যাপী পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধের ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেন মুজতবা খামেনি।

তার মতে, সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও বাসিজ বাহিনীর দৃঢ় অবস্থানের পাশাপাশি জনগণের এই উপস্থিতি ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং ইসলামি শাসনব্যবস্থা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, এই সম্মিলিত অবস্থান ভবিষ্যতেও ইরানের সার্বভৌমত্ব ও শাসনব্যবস্থা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

বিভিন্ন দেশে সক্রিয় প্রতিরোধ ফ্রন্টের অবস্থানের প্রশংসা করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি কার্যপরিধির ঐক্যকে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন।

মুজতবা খামেনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের ঐক্য মুসলিম জাতি ও সরকারগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করবে এবং একটি নতুন ইসলামি সভ্যতা গঠনের ভিত্তি তৈরি করবে।


বৈঠকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি, সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান মেজর জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

তারা পারস্য উপসাগরীয় উপকূল, হরমুজ প্রণালী, ওমান সাগর এবং দেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে নিয়োজিত বাহিনীগুলোর উচ্চ সতর্কাবস্থা ও প্রস্তুতির কথা জানান।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদ, গোয়েন্দা নজরদারি সরঞ্জাম, সামরিক সহায়ক উপকরণ এবং বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধাস্ত্রের উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানোর বিষয়েও সর্বোচ্চ নেতাকে অবহিত করেন তারা।

বৈঠকে উপস্থাপিত পদক্ষেপগুলোর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে মুজতবা খামেনি সামরিক বাহিনী, পুলিশ, বাসিজ সদস্য, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জানানোর নির্দেশ দেন। মেহের নিউজ
 


কমেন্ট বক্স